সাজ্জাদ হোসেন শিমুল
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লার নবগঠিত ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা ঘোষণার খবরে স্থানীয় জনমনে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। তবে এই আনন্দের মাঝেই উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গেজেটে উল্লেখিত সদর দপ্তরের অবস্থান পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ।
গত বুধবার (৮ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার (জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেটের দ্বিতীয় পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে—নতুন এই উপজেলার সদর দপ্তর বাঙ্গরা (পূর্ব) ইউনিয়নের ‘খামারগ্রাম’ মৌজায় স্থাপিত হবে। আর এই ঘোষণার পর থেকেই সদর দপ্তরের স্থান নিয়ে ভিন্ন মতের সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন উপজেলা ঘোষণাকে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে সবাই স্বাগত জানালেও, সদর দপ্তর কেন ‘খামারগ্রাম’ মৌজায় করা হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। স্থানীয়দের একাংশের জোরালো দাবি, উপজেলার নাম যেহেতু ‘বাঙ্গরা’, তাই এর মূল প্রশাসনিক কেন্দ্র বা সদর দপ্তরও ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘বাঙ্গরা’ মৌজাতেই হওয়া উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই নিয়ে নানা যুক্তিতর্ক চলছে। কেউ কেউ বলছেন, খামারগ্রাম মৌজায় সদর দপ্তর হলে উপজেলার বড় একটি অংশের মানুষের জন্য যাতায়াত ও নাগরিক সুবিধা পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় আলম মেম্বার তার ফেইসবুকের এক পোষ্টে লিখেন, বাঙ্গরা উপজেলা ঘোষণার পর গেজেটের কিছু বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তা নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, উপজেলা বাস্তবায়নের সরকারি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, বাঙ্গরাবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ঘোষিত বাঙ্গরা উপজেলা যথাযথভাবেই বাস্তবায়িত হবে। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং ধর্মমন্ত্রী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণের বিষয়ে ক্ষোভ ও নিজেদের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, "উপজেলা ঘোষণার খবর শুনে আমরা খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু সদর দপ্তর খামারগ্রামে করার সিদ্ধান্তে আমরা কিছুটা হতাশ। বাঙ্গরা নামের সার্থকতা ধরে রাখতে এবং সবার যোগাযোগের সুবিধার জন্য সদর দপ্তর বাঙ্গরা মৌজাতেই হওয়া উচিত। আমরা সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানাই।"
অন্যদিকে, খামারগ্রাম এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, "সরকার ও নিকার কমিটি সবদিক বিবেচনা করেই খামারগ্রাম মৌজা নির্ধারণ করেছে। এখানে পর্যাপ্ত সরকারি জমি ও অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। এখন স্থান নিয়ে বিতর্ক না করে দ্রুত উপজেলার কার্যক্রম চালু করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।"
এ বিষয়ে স্থানীয় বা জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের ও নিকার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আপাতত গেজেটের নির্দেশনা মেনেই পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সদর দপ্তরের স্থান নিয়ে জনমতের এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় নেবে এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।