ঢাকা ১১ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
মুরাদনগরে ব্যক্তিগত মাদ্রাসাকে ‘এতিমখানা’ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ কুমিল্লা বাঙ্গরায় জামাত নেতার বিরুদ্ধে ১০বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগ ‘স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছি’ বলে থানায় আত্মসমর্পণ স্বামী সরকারি শিশু পরিবারে কীভাবে অন্তঃসত্ত্বা হলো কিশোরী, বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা ইসলামপুরে এমপি সুলতান মাহমুদ ও বিএনপি নেতার গাড়ি ভাঙচুর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় সদস্য নির্বাচিত মওদুদ আবদুল্লাহ কুমিল্লায় গোমতীর দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত ৫ সরকারি টাকায় বন্ধ বিদেশ ভ্রমণ ও গাড়ি কেনা মুরাদনগরে ৯৪ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য ৯৩টি কুমিল্লায় খেলা নিয়ে সংঘর্ষে ব্রাজিল সমর্থক নিহত মাইকের আওয়াজ কমাতে বলায় জবি ছাত্রীকে মারধর

‘স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছি’ বলে থানায় আত্মসমর্পণ স্বামী

অনলাইন সংস্করণ
১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ ২৬ বার পঠিত
‘স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছি’ বলে থানায় আত্মসমর্পণ স্বামী

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে বটি দিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে মনে করে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন মোহাম্মদ কাজল (২৮) নামে এক যুবক। তবে ভাগ্যক্রমে তার স্ত্রী ইভা আক্তার বেঁচে যান।

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কাজল বুড়িচং উপজেলার বলরামপুর গ্রামের মো. আব্দুল হান্নানের ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে জিয়াপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ইভা আক্তার স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাজল থানায় এসে দাবি করেন, তিনি তার স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করেছেন। প্রায় একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ঘটনাটি জানিয়ে ফোন আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, ইভা আক্তার তখনও জীবিত, তবে তার গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলাম জানান, ভোররাতে কাজল এসে বলেন, তিনি তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এ কথা বলেই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় ইভা আক্তারকে জীবিত দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয় এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত ইভা আক্তারের বড় বোন নিপা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই কাজল যৌতুকের টাকার জন্য তার বোনকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন। বিদেশে যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য ঘটনার আগের দিনও ইভাকে মারধর করা হয়। টাকা দিতে না পারায় পরিকল্পিতভাবে তার বোনকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।

বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত কাজল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে মামলা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি আহত গৃহবধূর শারীরিক অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন