ময়মনসিংহ নগরের রামকৃষ্ণ মিশন রোড এলাকার ছত্রিশবাড়ি কলোনিতে ঘরে ঢুকে রাজিব আহমেদ রুবেল (৪০) ওরফে কাইল্যা রুবেল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (৫ জুলাই) সকালে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এক নারীকে ধর্ষণের জেরে ওই নারীর সন্তানেরা তাকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রবিবার এবং আজ সোমবার বেলা পৌনে একটা পর্যন্ত এ ধরনের খবরের সত্যতা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেল ছত্রিশবাড়ি কলোনিতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। ওই ঘরে তিনি নিজের বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাতেন।
তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। এলাকায় নানা সময়ে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে মানুষ তার ওপর বিরক্ত ছিল।
ময়মনসিংহ নগরের রামকৃষ্ণ মিশন রোড এলাকায় গিয়ে কথা হলে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে। তারা জানান, ধর্ষণের কারণে রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার থেকে এ কথা মানুষ বলাবলি করছে। শোনা গেছে, শনিবার রাতে রুবেল একজন নারীকে জোর করে তার ঘরে নিয়ে যান এবং সারা রাত ধরে তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। যে কারণে ওই নারীর ছেলেরা ঘরে ঢুকে রুবেলকে জবাই করে হত্যা করেছেন। এর আগে তারা রুবেলের ঘরের সামনে রাখা একটি মোটারসাইলে আগুন দেন। ওই সময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
রবিবার ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের পর এমন কিছু পাওয়া গেলে জানানো হবে। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। সন্দেহজনক কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। যথাসময় গণমধ্যমকে বিস্তরিত বলা হবে।’
সোমবার পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে। মাঠের কাজ শেষে টিম আমাদের তথ্য জানাবে। এরপর বিস্তরিত বলা যাবে।’
ময়মনসিংহ কতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান, রুবেল হত্যার ঘটনায় রবিবার রাতে মামলা হয়েছে। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ বেলা পৌনে একটা পর্যন্ত এ মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।