ঢাকা ৭ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
মুরাদনগরে ব্যক্তিগত মাদ্রাসাকে ‘এতিমখানা’ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ মাইকের আওয়াজ কমাতে বলায় জবি ছাত্রীকে মারধর চীনে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কুমিল্লার আদর্শ সদরে ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার ব্রাহ্মণপাড়ায় বোনের ভাড়া বাসা থেকে কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীর ক্লাসরুমেই বিষপান ৭৭ লাখ টাকার খাল খনন প্রকল্প: কাগজে শ্রমিক মাঠে ভেকু মাকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগে যুবককে হত্যা করল সন্তানরা! গ্রেপ্তার ৬ ব্রাহ্মণপাড়ায় ভারতীয় বিয়ারসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বাঙ্গরায় রাশিদা হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ বাধ্যতামূলক অবসরে ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা এবার দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স-স্পেন-পর্তুগালের বিভিন্ন অঞ্চল

মাইকের আওয়াজ কমাতে বলায় জবি ছাত্রীকে মারধর

অনলাইন সংস্করণ
৭ জুলাই ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ ১৬ বার পঠিত
মাইকের আওয়াজ কমাতে বলায় জবি ছাত্রীকে মারধর

অনলাইন ডেস্ক

কুমিল্লায় নিজ বাসার সামনে মাইকের উচ্চ শব্দ কমানোর অনুরোধ করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়ে ওই শিক্ষার্থী এখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই শিক্ষার্থী ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তাকে ও তার পরিবারকে মামলা না করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে নানাবিধ হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুরো ঘটনাটিকে ধর্মীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, গত রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাদের বাসার সামনে একটি মাজার শরীফের নামে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছিল। পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে না পেরে তিনি মাইকের শব্দ কিছুটা কমানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু এই অনুরোধের পর পরই সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা তার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি আইনি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড়, কাপড় টানাটানি এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেয়েটির আঘাত অত্যন্ত গুরুতর এবং তার শরীরের হাড় ভেঙে গেছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

আহত শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এই নৃশংস ঘটনার পর তারা যখন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র তাদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে তারা সামাজিক মাধ্যম ও এলাকায় মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে যে, ওই শিক্ষার্থী ‘ধর্মের বিরুদ্ধে’ কথা বলেছেন। একই সঙ্গে, মেয়েটি নিজেই নিজেকে আঘাত করেছেন বা প্রতিপক্ষের ওপর অ্যাসিড ছুঁড়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী স্পষ্ট করে বলেছেন, তার কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি কেবল তীব্র শব্দদূষণের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন।

এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্র সংসদের (জকসু) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জকসুর পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জবির সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের সহপাঠীর ওপর এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ওই শিক্ষার্থী কোনো রকম প্রভাব ও হস্তক্ষেপ ছাড়া পুরো ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন