মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার মুরাদনগরে আলোচিত ত্রিপল মার্ডারের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের বেচে থাকা দুই মেয়ের জীবন নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে পরিবারের পক্ষ থেকে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
২০২৫ সালে মুরাদনগরের কড়ইবাড়ির রুবিস তার ছেলে রাসেল ও মেয়ে জোনাকি হত্যার ঘটনায় ওই পরিবারে বেচেঁ ফেরা দুই মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কড়ইবাড়ি এলাকায় এ সভা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাবেক সেনাসদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, পল্লি চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভুক্তভোগী পরিবারের জীবিত দুই বোন রিক্তা আক্তার ও রুমা আক্তার তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। তারা বলেন, পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর তারা এমনিতেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন খবর ও আশঙ্কা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় তারা প্রশাসনের কাছে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান। সঞ্চালনা করেন সামসুল হোসেন।
বক্তারা বলেন, ত্রিপল মার্ডারের মতো চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগী পরিবারের জীবিত সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দুই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা চলছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে এর সত্যতা যাচাই করা এবং কোনো ধরনের ঝুঁকি থাকলে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ওসভায় বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম দানু, সাখাওয়াত হোসেন চন্দন, জসিম উদ্দীন, সাবেক সেনাসদস্য জসিম উদ্দীন, পল্লি চিকিৎসক মজিবুর রহমান, সেনাসদস্য শাহজাহান সরকার, হুমায়ুন মাস্টার, তাহের সরকার ও অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আলমগীর হোসেনসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা আরও বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডের পর একই পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি সত্যিই জীবিত দুই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে থাকে, তাহলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে যাতে নতুন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ত্রিপল মার্ডারের ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে জীবিত দুই মেয়েকে ঘিরে নতুন করে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ ওঠায় এলাকায়ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা মনে করছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা হলে একদিকে যেমন ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কও কমবে।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা ভুক্তভোগী পরিবারের জীবিত দুই মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ত্রিপল মার্ডারের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।