অভিযোগের পাহাড়, নেই তদন্তের উদ্যোগ— প্রশ্নের মুখে মুরাদনগরের ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
অনলাইন সংস্করণ
৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
•
৩৪ বার পঠিত
সাজ্জাদ হোসেন শিমুল
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দুর্গারাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ দায়েরের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো তদন্ত কমিশন গঠন না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষক গত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একইসঙ্গে তারা কুমিল্লা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়েও অভিযোগ প্রদান করেন। তবে অভিযোগের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ময়নাল হোসেন সরকার দরিদ্র তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিধিবহির্ভূত অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এসএসসি-২০২৫ পরীক্ষার বেঞ্চ মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার না করে আত্মসাৎ এবং টিসি ও মূল সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো নানা অনিয়মে জড়িত।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, পিয়ন দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো এবং বিদ্যালয় চলাকালীন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য শিক্ষকদের বাসায় যেতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে।
শিক্ষকদের দাবি, তার স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ জন পাস করলেও ৪০ জন অকৃতকার্য হয় এবং মাত্র দুইজন জিপিএ-৫ অর্জন করে। চলতি বছরের প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় ৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত বহন করে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক এবং অফিস সহকারী পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক পিয়নও নেই। এমন পরিস্থিতিতে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে রাখা যায় না। তারা দ্রুত তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি জেনেছেন। তদন্ত কমিশন গঠন করা হলে তিনি যথাযথ জবাব দিতে প্রস্তুত আছেন।
কুমিল্লা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে দেখা হবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সেই নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।