ঢাকা ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
মুরাদনগরে ব্যক্তিগত মাদ্রাসাকে ‘এতিমখানা’ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ অপ্রতিম হত্যার নেপথ্য রহস্য খুঁজছে ৫ বাহিনী কুবি শিক্ষিকার ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন তরুণ আটক ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নূর জাহানের, মারা গেলো অনাগত সন্তানও মুরাদনগরে স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের বাঁশকাইট একতা সমাজকল্যাণ সংঘের উদ্যোগে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মুরাদনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন মুরাদনগরে বিকাশের দোকান থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৩টি স্মার্টফোন চুরির অভিযোগ দেবিদ্বারে অন্ধকারে আলো ছড়াচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন টিম ওয়াহেদপুর হোমনায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর যুবকের আত্মহত্যা কুমিল্লায় মাদ্রাসা শিক্ষা কর্মচারী ফোরামের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় বাস খাদে পড়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ২০ শিক্ষার্থী আহত

অপ্রতিম হত্যার নেপথ্য রহস্য খুঁজছে ৫ বাহিনী

অনলাইন সংস্করণ
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ ১৯ বার পঠিত
অপ্রতিম হত্যার নেপথ্য রহস্য খুঁজছে ৫ বাহিনী

অনলাইন ডেস্ক:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের সূত্র ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তবে অপ্রতিমকে কেন হত্যা করা হলো, হত্যার নেপথ্যে কারা এবং এর উদ্দেশ্যই বা কী ছিল—এসব প্রশ্নের এখনো নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। তদন্তসংশ্লিষ্টদের সামনে সম্ভাব্য কয়েকটি বিষয় এসেছে। এর মধ্যে মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য, কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা এবং অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে স্থানীয় কোনো চক্রের পূর্ববিরোধ—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব সম্ভাবনার কোনোটি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, হত্যার পেছনে শুধু মোবাইল ফোন, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার শুরু গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানাধীন কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। দীর্ঘ সময় পরও সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে।


প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় এক ব্যক্তি বাঁশ কাটতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে অপ্রতিমের মানিব্যাগ পাওয়া গেলেও তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো উদ্ধার হয়নি।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার সর্বশেষ অবস্থান ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিন নামে এক ব্যক্তিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় দেখা যায়। পুলিশ জানায়, তারা সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। এরপর শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তুহিনকে আটক করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনাস এবং এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর ফাহিমকে আটক করা হয়।

সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, তুহিন, আনাস ও ফাহিমকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার চূড়ান্ত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ড. নাহিদা বেগম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এক মাসের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগে সালমানপুর এলাকার কয়েকজন কিশোরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগমের মাধ্যমে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

ওই ঘটনার পর স্থানীয় মাদকচক্র বা কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অংশ নাহিদা বেগমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে টার্গেট করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে হত্যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশও বলছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ দ্রুত বের করার চেষ্টা চলছে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, সিআইডি, পিবিআই ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা কাজ করছেন। ঘটনাস্থল, সিসিটিভি ফুটেজ, অপ্রতিমের সর্বশেষ গতিবিধি এবং তার সঙ্গে থাকা আইফোনের অবস্থান—সবকিছুই তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা দ্রুত উদঘাটন করা হবে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্তে সহযোগিতা করছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ, ডিবি, এসআরবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু অপ্রতিমকে আর জীবিত পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখনো উদ্ধার হয়নি।

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, কী কারণে তার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করা হলো, তিনি জানেন না। তিনি হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেছেন।

এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অপ্রতিমের হত্যার সঙ্গে কি শুধু আইফোন ছিনতাইয়ের যোগসূত্র রয়েছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো পরিকল্পনা বা পূর্ববিরোধ? তুহিন, আনাস ও ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য-প্রমাণ ও আইফোনের সন্ধান মিললেই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর স্পষ্ট হতে পারে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও পড়ুন