নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
একের পর এক মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে বারবার স্মারকলিপি দিয়েও মিলছে না নিরাপত্তা। কুমিল্লা নগরীতে পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রর ওপর দীর্ঘ এক যুগ (১২ বছর) ধরে ধারাবাহিক হামলা, চক্রান্ত ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্র। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন এই সাংবাদিক ও তাঁর পরিবার।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, এই অপরাধী চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত ভয়ংকর ও সুসংগঠিত। তারা সাধারণত মুখে মাস্ক এবং মাথায় হেলমেট পরে নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে নগরীতে ঘুরে বেড়ায়। শুধু সাংবাদিক শুভ্রর ওপর হামলাই নয়, চক্রটির বিরুদ্ধে ভুয়া প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে হ্যান্ডকাফ ও জ্যাকেট ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে অপহরণ ও জিম্মি করার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগও রয়েছে।
সর্বশেষ সাংবাদিক শুভ্রর দায়ের করা একটি আমলযোগ্য মামলার প্রেক্ষিতে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে পুলিশি অভিযানে চক্রের কয়েকজন সদস্য গ্রেপ্তার হলেও অপরাধের মাত্রা কমেনি। জামিনে থাকা ও পলাতক বাকি আসামিরা এখনো সাংবাদিক শুভ্রর কাছে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রতিনিয়ত ভয়ংকর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন আসামিদের গ্রেপ্তারে 'হার্ড লাইনে' থাকার কথা বললেও বাস্তবে অপরাধীদের এই লাগামহীন তৎপরতায় স্থানীয় সংবাদকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটে স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বিচার ব্যবস্থা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টি। একজন পেশাজীবী ও গণমাধ্যমকর্মী এক যুগ ধরে আইনি লড়াই চালিয়েও কেন স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপত্তা পাবেন না—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে দফায় দফায় স্মারকলিপি দেওয়ার পরও অপরাধীদের এই দাপট আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে একজন সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারকে জিম্মি করে রাখা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই লাগামহীন অপরাধ দমনের চূড়ান্ত দায়িত্ব রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই নিতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।