মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলার শিকার হয়েছেন একই পরিবারের দুই ভাই।
উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন শ্রীকাইল ইউনিয়নের পিপড়িয়া গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়েছেন একই পরিবারের দুই ভাই। আহিতরা হলেন পিপিড়িয়া গ্রামের মৃত সিজিল মিয়ার ছেলে আল আমিন ও ছোট ছেলে রিপন মিয়া (৩৫ । গুরুতর আহত রিপন মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পিপড়িয়া গ্রামের আল আমিনের ছোট ভাই রিপন মিয়া (৩৫) তার স্ত্রী ও সন্তানসহ অটোরিকশায় করে রামচন্দ্রপুর বাজারে যাওয়ার পথে সল্পা এলাকার প্রভা বিকস ফিন্ডের পাশে আসলে, পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা আশরাফুল ইসলাম, কাশেম মিয়া, শফিক মিয়া, কাউছার, জয়নাল, বাছির মিয়া, ফারুকসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তার পথরোধ করে।
রিপন প্রতিবাদ করলে তার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান হাতে একাধিক স্থানে কুপিয়ে জখম করে আশ্রাফুল। যার ফলে একটি আঙুলের হাড় সম্পূর্ণভাবে কেটে যায়। একাধিক কোপে তার পা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
পরে তার ভাই ময়নল হক (৩৭) ছুটে আসলে তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়, যার ফলে তার চোখের উপরে গুরুতর জখম হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আহতদের প্রথমে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখান থেকে রিপন মিয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বজনরা।
আহতদের পরিবার দাবি করে বলেন, এ হামলার পেছনে রয়েছে পূর্বের একটি বিরোধ। কয়েকদিন আগে শাহিন খন্দকার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাদীদের উত্তেজনা চলছিল। রিপন মিয়া শাহিনের সঙ্গে চলাফেরা করায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় আহতদের পক্ষ থেকে বাঙ্গরা বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানায় তারা।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার প্রধান আসামীকে স্থানীয়রা আটক করে থানায় খবর দিলে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে মামলা রুজু করে আসামীকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।