ঢাকা • ৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
মুরাদনগরে ব্যক্তিগত মাদ্রাসাকে ‘এতিমখানা’ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ মুরাদনগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার রতন, ছবির আড়ালের পুরো ঘটনা জানালেন ছাত্রদল নেতা মহসিন বুড়িচংয়ে পূর্বশত্রুতা ও সড়ক সম্প্রসারণের জেরে  মা-ছেলেকে মারধর লাঞ্ছনায় থানায় অভিযোগ জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম হৃদয় অবিবাহিত দিবস: একা আছি, বেশ আছি! ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন "​রক্তযোদ্ধা মানব সংগঠনের উদ্যোগ: বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ৩০০টি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন" কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত সন্দেহে একরাতে আটক ৬২৪ দেবিদ্বারে মাকে কুপিয়ে ও ৮ মাসের ভাতিজিকে আছাড় দিয়ে হত্যা, যুবক আটক অপ্রতিম হত্যার নেপথ্য রহস্য খুঁজছে ৫ বাহিনী কুবি শিক্ষিকার ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন তরুণ আটক

চীনে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন সংস্করণ
৭ জুলাই ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ • ১২২ বার পঠিত
চীনে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ বছর ধরে ২.২ বিলিয়ন ইউয়ান (৩২৫ মিলিয়ন ডলার) ঘুষ নেওয়ার পূর্ব চীনের একটি আদালত সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

ইয়াং ইউলিন নামক ওই নগর কর্মকর্তা ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেবল ঘুষ নেওয়াই নয়; তহবিল তছরুপ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের মতো অপরাধেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি চীনে আর কারও কাছে মেলেনি।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৬৯ বছর বয়সি ইয়াং নিজের পদের ফায়দা তুলে মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ ও দামি উপহারের বিনিময়ে অনেককে ইঞ্জিনিয়ারিং কন্ট্র্যাক্ট, জমি হস্তান্তর ও অর্থায়নের সুযোগ পাইয়ে দিতেন।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেশজুড়ে চলা কঠোর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ধরা পড়েন ইয়াং। জিনপিংয়ের এই শুদ্ধি অভিযান ইতিমধ্যেই চীনের সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে ব্যাংকিংসহ অন্যান্য খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাড়িয়ে দিয়েছে।

কর্মজীবনের সিংহভাগই নানজিং শহরের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করেছেন ইয়াং। সোমবার চাংঝৌ শহরের আদালত বলে, ইয়াংয়ের অপরাধ 'ভয়াবহ গুরুতর'। তার এই দুর্নীতি 'রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে'।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন শি জিনপিং। সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সরিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবেই এই অভিযানগুলোকে ব্যবহার করছেন তিনি।

চীনে হোয়াইট কলার অপরাধীদের সাধারণত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় না। তবে দুর্নীতির অঙ্ক যদি ১ বিলিয়ন ইউয়ানের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়, তখন অনেক সময় এই সাজা দেওয়া হয়।

উদাহরণ হিসেবে সাবেক অর্থ-কর্মকর্তা লাই জিয়াওমিনের কথা বলা যায়। ১০ বছর ধরে ১.৮ বিলিয়ন ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার অপরাধে ২০২১ সালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

একই পরিণতি হয় ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংয়ের। তহবিল তছরুপ ও ঘুষ মিলিয়ে মোট ৩ বিলিয়ন ইউয়ান গ্রহণের দায়ে ২০২৪ সালে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অবশ্য অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে আদালত সরাসরি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে কারাদণ্ড বা স্থগিত মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে। একটা নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ওই সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়।

এমন নজিরও রয়েছে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি অন্য অপরাধীদের ধরিয়ে দিয়ে তদন্তে সাহায্য করলে আদালত তার সাজা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।

ইয়াং নিজেও প্রশাসনকে একইভাবে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু চাংঝৌ আদালত বলেছে, ইয়াংয়ের অপরাধ এতটাই 'গুরুতর' যে তদন্তে তার এই সহযোগিতা 'সাজা কমানোর জন্য কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়'।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়াং নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। চূড়ান্ত বিবৃতিতে তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য 'গভীর অনুশোচনা' প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন