নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লায় প্রায় এক যুগ ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ও বেপরোয়া অপরাধী চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও সুবিচার কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, হামলা, অস্ত্র প্রদর্শন ও অপহরণের মতো একের পর এক অপরাধ করে আসা এই চক্রটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) থাকলেও তাদের তাণ্ডব থামানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ২০১৭ সালের ৩ মে থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক জিডি ও মামলা করেছেন সাংবাদিক শুভ্র। সর্বশেষ গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখেও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অনলাইন জিডি (নম্বর: ২৬) দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (স্মারক নম্বর: ৩৪৩৯) এবং কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে (স্মারক নম্বর: ১৫৭০/এম) লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিভিন্ন ছদ্মবেশে প্রকাশ্য দিবালোকে মোটরসাইকেলে করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চষে বেড়ায়। অধিকাংশ সময় তাদের মোটরসাইকেলে কোনো নম্বর প্লেট থাকে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এবং নিজেদের পরিচয় লুকাতে তারা মুখে কালো মাস্ক ও মাথায় লাল-কালো হেলমেট ব্যবহার করে। এই চক্রটির সাথে স্থানীয় ভাড়াটে বখাটে, চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং কয়েকজন নারী সদস্যও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিক শুভ্র জানান, পেশাগত কারণে এই চক্রের অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় বারবার তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একপর্যায়ে হেলমেটধারী দুর্বৃত্তরা মাঝরাস্তায় তার পথরোধ করে তাকে মারাত্মকভাবে জখম করে এবং পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা, মোবাইল ফোনসহ সাথে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাও দায়ের করা হয়।
জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক জিআর ও সিআর মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার এফআইআর নম্বর- ৪১ (জিআর ৮৫০, তারিখ: ১৪ নভেম্বর ২০২৪) এবং অপর একটি দস্যুতা মামলার এফআইআর নম্বর- ৫১ (জিআর ৮১২, তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫) বর্তমানে তদন্তাধীন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরও অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও চক্রের বাকি সদস্যরা এখনো বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই চক্রটি নিজেদের প্রশাসনের ভুয়ো সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো ভয়ংকর অপরাধের সাথেও জড়িত বলে এলাকায় জোর গুঞ্জন রয়েছে।
এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার কর্মী ও ‘মানবাধিকার খবর’ পত্রিকার সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, "একজন গণমাধ্যমকর্মী একের পর এক আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরও যদি এভাবে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক। প্রশাসনের উচিত আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।"
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, "দায়ের করা মামলা ও জিডির ভিত্তিতে পুলিশ অলরেডি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বাকি আসামিরা বারবার স্থান পরিবর্তন করার কারণে তাদের ধরতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, খুব দ্রুতই পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা হবে।"
এদিকে একজন পেশাদার সংবাদকর্মীর ওপর এমন ধারাবাহিক নির্যাতন ও হুমকির ঘটনায় কুমিল্লার স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি—সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে এই অপরাধী চক্রকে দমন করা না হলে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনের প্রতি আস্থা চরম হুমকির মুখে পড়বে।