ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা
অনলাইন সংস্করণ
১২ আগস্ট ২০২০, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
•
৫৭ বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আখাউড়া) আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগষ্ট) দুপুরে আখাউড়া উপজেলার পৌর শহরের মসজিদ পাড়ার বাসিন্দা হারুন মিয়া বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। পরে, আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় আদালত।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন, আখাউড়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান, এসআই হুমায়ুন, এএসআই খোরশেদ ও কনস্টেবল প্রশান্ত এবং সৈকত।
মামলার বিরণীতে জানা যায়, আখাউড়ার পৌর শহরের মসজিদ পাড়ার বাসিন্দা হারুনের প্রতিবেশী হাসিনা বেগম (চিকুনী বেগম) ও তার মেয়ে তানিয়া এবং তানজিনার সাথে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এক যোগে মিলিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে। হারুন প্রতিবেশী হাসিনা বেগমের মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের হারুনের পিছনে লেলিয়ে দেয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মে গভীর রাতে অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য নাটকীয়ভাবে ওই নারীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার প্ররোচনায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পাঁচ পুলিশ সদস্য হারুনের বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশির নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এই সময় ক্রসফায়ার ও হত্যার ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ওই দিনই ভোর চারটার দিকে পুনরায় ওই পুলিশ সদস্যারা এসে হারুন ও তার স্ত্রীকে মিথ্যা মাদক মামলা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে এক লক্ষ টাকা দাবি করে। তা না হলে তাদেরকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোর্টে চালান দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়।
এ সময় তারা প্রাণ রক্ষায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে আপস করলে হারুন ও তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়। টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে হারুনকে ক্রসফায়ার দেয়া হবে বলে হুমকি দেন।
এই বিষয়ে মামলার বাদী হারুন মিয়া বলেন, অভিযুক্তরা আমাকে বিভিন্ন সময় ক্রসফায়রে ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নিয়েছে। তাদের কারণে আজকে আমি বাড়ি ছাড়া। ন্যায় বিচারের আশায় আদালতে অভিযোগ দিয়েছি।
এ ব্যাপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) রইস উদ্দিন জানান ঘটনাটি শুনেছি আদালত মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। তবে, এ বিষয়ে এখন পযর্ন্ত আমাদের হাতে কোনো অফিসিয়ালি আদেশ পৌঁছেনি। হাতে পাওয়ার পর বলতে পারবেন বলেও জানান রইস উদ্দিন।