ঢাকা ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
মুরাদনগরে ব্যক্তিগত মাদ্রাসাকে ‘এতিমখানা’ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ বাঁশকাইট একতা সমাজকল্যাণ সংঘের উদ্যোগে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মুরাদনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন মুরাদনগরে বিকাশের দোকান থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৩টি স্মার্টফোন চুরির অভিযোগ দেবিদ্বারে অন্ধকারে আলো ছড়াচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন টিম ওয়াহেদপুর হোমনায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর যুবকের আত্মহত্যা কুমিল্লায় মাদ্রাসা শিক্ষা কর্মচারী ফোরামের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় বাস খাদে পড়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ২০ শিক্ষার্থী আহত কুমিল্লার যে বাড়ির সুর ছড়িয়ে পড়ে উপমহাদেশের হৃদয়ে হিমালয় থেকে সমতল: জলবায়ু কোনো সীমান্ত মানে না দেবিদ্বারে নির্মাণাধীন স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুর, থানায় লিখিত অভিযোগ মুরাদনগরে ধর্মমন্ত্রীর উদ্যোগে ১০ হাজার গাছের চারা বিতরণ

বরুড়ায় জমি খারিজের তিন সহস্রাধিক আবেদন ঝুলে আছে সহকারি কমিশনারের কার্যালয়ে

অনলাইন সংস্করণ
৫ মার্চ ২০২১, ২:১৯ অপরাহ্ণ ৪৭ বার পঠিত
বরুড়ায় জমি খারিজের তিন সহস্রাধিক আবেদন ঝুলে আছে সহকারি কমিশনারের কার্যালয়ে
ফয়সাল মবিন পলাশ:
কুমিল্লার বরুড়ায় জমি খারিজের সহস্রাধিক আবেদন ঝুলছে সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে। সিটিজেন চার্টারে ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে আবেদনের সুরাহা করার কথা থাকলেও বাস্তবে ৪ মাস থেকে একবছর পর্যন্ত ঘুরেও সমাধান পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। বিপাকে পড়েছেন জমির মালিকরা। থমকে আছে সরকারের রাজস্ব আয়। সরজমিনে ঘুরে ও সহকারি কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে ক্রয়কৃত ও যৌথ মালিকানার কোন সম্পত্তি নাম খারিজ ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় হয় না। তাই পুর্বের তুলনায় নাম খারিজের আবেদনের সংখ্যা বেশী। এছাড়া নামের ভুল, পরিমানের গড়মিল, দাগের ভুল সংশোধন করতেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করে সমাধান না হওয়ায় বিপাকে রয়েছেন জমির মালিকেরা। বরুড়ায় গত দু্ই বছরেরও অধিক সময় ধরে খুবই ধীর গতিতে চলছে নাম খারিজের কাজ। এতে করে ফাইল ঝটলা বেধেঁছে উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে। স্থানীয় ভাবে চাপে রয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বে নিয়োজিত উপসহকারি ভূমি কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা ছোট চাকরি করি, অনেক বিষয়ে জানলেও বলতে পারি না। তবে সম্প্রতি আমাদের নাম খারিজের নথির কাজ চলছে খুবই ধীর গতিতে। বর্তমান সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাহিদা ‍সুলতানা বরুড়ায় যোগদানের পর থেকেই জমি খারিজের এই ধীরগতি। ভুক্তভোগীরা জানায়, নাম খারিজের কাজ বন্ধ থাকায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। ঋণ পরিশোধ, জরূরী চিকিৎসা, বিদেশ যাওয়া ও ব্যবসা-বাণিজ্য আটকে যাচ্ছে। টাকার অভাবে অনেক কৃষকের চলমান চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সুদের গেরাকলে ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বরুড়ার আড্ডা ইউনিয়নের এক প্রবাসী বলেন, ২০২০ সালের মার্চ মাসে ভিটে বাড়ি খতিয়ান থেকে নাম খারিজের আবেদন করেছিলেন। দুইবার ছুটিতে এসে ঘুরে ঘুরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাহিদা ‍সুলতানার সাথে দেখা করেও ওই আবেদনের কোন ফয়সালা পাননি তিনি। গত কোরবাণীর ঈদের আগে নাম খারিজের আবেদন করে আদৌ কোন সমাধান পাননি আমির হোসেন নামের আরেক জমির মালিক। আবেদনের ৫ মাস পর খারিজ না পেয়ে হতাশ হয়ে বিদেশ চলেগেছেন আরেক প্রবাসি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন। টুটুল চৌধুরী নামের এক খারিজ গ্রহিতা বলেন, আবেদন করেছি দুই মাসেরও বেশি সময় হয়েছে, এখনও আনেদন গ্রহনের মেসেজ পাইনি। উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের আবুল কাসেম তার নামের ভুল ঠিক করেতে আবেদন করে গত দেই বছরেও সমাধান পায়নি বলে অভিযোগ করে বলেন, টাকা ছাড়া একটা কাজও করেনা উপজেলা ভূমি অফিস। আব্দুল ওয়াদুদ নামের একজন বলেন, আমি টাকা দিয়েও খারিজ পচ্ছিনা। আনোয়ার হোসেন নামের একজন বলেন, অভিযোগ করলে আরও হয়রানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই কিছু বলবোনা। এমন আরও অসংখ্য অভিযোগ করেন, মো: জহিরুল ইসলম, সাজিম উদ্দীন, লিটন প্রধান, বরুড়া উপজেলা দলিল লেখক সমিতির দায়িত্বশীল এক সদস্য বলেন, গত ১-দেড় বছরে নাম খারিজ নিস্পত্তির পরিমাণ খুবই কম। তিন সহস্রাধিক আবেদন আটকে আছে। ঘটনাটি অতীতের অনেক রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছে। মানুষ অনেক হয়রানি ও কষ্টের মধ্যে আছে। অনেক গুরূত্বপূর্ণ কাজ করতে পারছে না। খারিজ ছাড়া দলিলও হয় না। সরকার রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই। অভিযোগ রয়েছে, সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাহিদা ‍সুলতানা দপ্তরের দরজার সামনে প্রায়ই লেখা থাকে তিনি মিটিংয়ে, ভ্রাম্যমান আদালতে অথবা প্রশিক্ষণে আছেন। যে সময়টুকু তার দাপ্তরে থাকেন সে সময়ের প্রায়ই ফোনে কথা বলে সময় পার করেন।

আরও পড়ুন