কুমিল্লার মুরাদনগরে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক বাছাই প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উপজেলা পর্যায়ের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সাউন্ড সিস্টেম ছাড়াই নৃত্য প্রতিযোগিতা আয়োজন করায় শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই প্রতিযোগিতায় দেখা যায়, একটি ক্লাসরুমে কোনো ধরনের সাউন্ড সিস্টেম ছাড়াই নৃত্য পরিবেশন করতে বাধ্য করা হচ্ছে প্রতিযোগীদের। এমনকি এক শিক্ষার্থীর নৃত্যের সময় তার কানের কাছে মোবাইল ফোনে গান বাজিয়ে ধরে রাখতে দেখা যায় একজন অভিভাবককে।
নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, “সাউন্ডের সমস্যার কারণে আমি গান ঠিকভাবে শুনতে পারিনি। ফলে তাল ধরতে পারিনি এবং ভালোভাবে নাচও উপস্থাপন করতে পারিনি।”
এ ঘটনায় উপস্থিত অভিভাবকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এমন অব্যবস্থাপনা শিক্ষার চরম অধঃপতনের প্রমাণ। তারা এ ধরনের আয়োজনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীলতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এমন অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিচারকরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডি.আর স্কুল মাঠে সরে যেতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মোবাইল কানে দিয়ে নৃত্য প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কোনো কারণে বিদ্যালয়ের কক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, তাহলে অবশ্যই যথাযথ সাউন্ড সিস্টেম নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।”
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।