ঢাকা ১৭ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
মুরাদনগরে ব্যক্তিগত মাদ্রাসাকে ‘এতিমখানা’ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ কুমিল্লায় পেট ব্যথার চিকিৎসায় দুই দফা অস্ত্রোপচার, রোগীর মৃত্যু সরকারি চিকিৎসকের দরজায় নির্দেশনাটি কে লাগিয়েছে খোঁজা হচ্ছে মুরাদনগরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, পলাতক স্বামী কুমিল্লায় তনু হত্যা মামলা: ফের গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত দাউদকান্দিতে বাঁশের ঠেকনায় টিকে আছে জরাজীর্ণ সেতু, আতঙ্কে চলাচল আজ বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতির নির্বাচন আব্দুল মোমেন-আবির- বিল্লাল নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জন নিহত, আহত ২৫ কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রাইমারি স্কুল শিক্ষার্থীদের দিয়ে আ.লীগের মিছিল কিস্তির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে গ্রাহকের গরু নিয়ে গেলেন এনজিও কর্মীরা মুরাদনগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিএনপির দোয়া মাহফিল বেইলি সেতু ভেঙে নদীতে, দুর্ভোগে দুই জেলার হাজারো মানুষ

মুরাদনগরে ব্যক্তিগত মাদ্রাসাকে ‘এতিমখানা’ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ

কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা এলাকায় অবস্থিত “মাদ্রাসায়ে দারুল কুরআন” নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

অনলাইন সংস্করণ
২৩ মে ২০২৬, ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ ২৮৭ বার পঠিত
মুরাদনগরে ব্যক্তিগত মাদ্রাসাকে ‘এতিমখানা’ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ

সাজ্জাদ হোসেন শিমুল:

কুমিল্লার মুরাদনগরে একটি ব্যক্তিগত মাদ্রাসার সঙ্গে ‘এতিমখানা’ সংযুক্ত করে সরকারি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত এতিম শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও কাগজপত্রে এতিমখানা দেখিয়ে সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার বাঙ্গরা এলাকায় অবস্থিত “মাদ্রাসায়ে দারুল কুরআন” নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত এই প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ‘এতিমখানা’ যুক্ত করে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক বরাদ্দ তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘এতিমখানা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি সামনে আসে। তালিকায় এভাবে উল্লেখ থাকায় সংশ্লিষ্ট মহলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই মাদ্রাসায় কার্যত কোনো এতিম শিক্ষার্থী নেই। কেউ থাকলেও তাদেরও নিয়মিত বেতন দিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কেন একটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে যাবে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বরাদ্দকৃত অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “ধর্মমন্ত্রী একজন সৎ ব্যক্তি হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের অপকর্ম করছে। আমরা চাই, বিষয়টি পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত এতিমদের মাঝে বরাদ্দ বণ্টন করা হোক।”

গ্রামের বাসিন্দা রহিম খাঁ বলেন, “এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা গুরুতর অন্যায়। সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত পাওনাদারদের মাঝে অর্থ দেওয়া উচিত।”

অত্র মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাহপরান রুবেল বলেন, “আমার সন্তানরা এখানে পড়াশোনা করছে। কখনো শুনিনি এখানে এতিম শিক্ষার্থী আছে। তাহলে কেন এতিমখানা দেখানো হলো, তা বোধগম্য নয়।”

বাঙ্গরা বাজার জুমা মসজিদের খতিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের অপরাধ বাড়তে পারে।”

তবে মাদ্রাসার এক শিক্ষক দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন এতিম শিক্ষার্থী রয়েছে, যদিও তারা বর্তমানে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। তিনি আরও জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন সাড়ে তিন হাজার টাকা হলেও এতিম শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা শিহাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ দে বলেন, “অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন