১৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম: মুরাদনগরে নিম্নমানের নির্মাণ ভেঙে ফেললেন প্রকৌশলী, সাব-কন্ট্রাক্ট বাতিল
অনলাইন সংস্করণ
৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
•
৯০ বার পঠিত
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই অনেক সময় তা তদন্তের জটিলতায় হারিয়ে যায়| তবে কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘটেছে ভিন্ন চিত্র| অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে নিম্নমানের নির্মাণ ভেঙে ফেলা এবং দায়ী সাব-কন্ট্রাক্টরের চুক্তি বাতিলের ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ| তার এই দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপে ¯^স্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে|
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন "চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ” প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মেটংঘর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কের ৫ কিলোমিটার উন্নয়নকাজ চলমান|
মনির-ইসলাম জেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২০ নভে¤^র এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৭ সালের ১৯ মে শেষ হওয়ার কথা|
গত মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বিকেলে এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আকুবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর পশ্চিমপাড়া এলাকায় বায়তুছ সালাত জামে মসজিদ সংলগ্ন আর্সি নদীতে একটি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ চলছিল| তবে শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়| অভিযোগ ওঠে, নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকৌশলগত মানদণ্ড মানা হচ্ছে না|
বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণের নজরে এলে তিনি দেরি না করে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান| সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন|
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না| অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে|
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ত্রুটিপূর্ণ অংশ অপসারণ করা হয়েছে এবং দায়ী সাব-কন্ট্রাক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে| একই সঙ্গে প্রকল্পের বাকি কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে|
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নিম্নমানের এই নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত| তারা উপজেলা প্রকৌশলীর এমন দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, নিয়মিত মনিটরিং হলে সরকারি উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব|
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে ¯^চ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত| তারা বলেন, দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রমে আস্থা আরও বাড়বে|