কুমিল্লার লাকসামে সড়ক বিভাগের সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানোর পরও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত প্রায় ৩৬ শতক জমি বালি দিয়ে ভরাট করে অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। কোটি টাকা মূল্যের এ সরকারি জমি দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে লাকসাম-মুদাফফরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পৌর এলাকার মিশ্রী এলাকায় পুনরায় বালি ভরাট করা হয়। এর আগে সড়ক বিভাগ জায়গাটি নিজেদের সম্পত্তি উল্লেখ করে ‘জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করলেও তা উপেক্ষা করে ভরাট কার্যক্রম চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিশ্রী গ্রামের আবুল হোসেন আবুল দীর্ঘদিন ধরে অধিগ্রহণকৃত ৩৬ শতক জমিসহ পাশের ব্যক্তিগত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। এ বিষয়ে তিনি জানান, সড়ক বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমির পাশাপাশি তার নিজস্ব ১৯ শতক জমিসহ মোট ৫৫ শতক জায়গা ছিল। ব্যাংক ঋণের কারণে তিনি পুরো জায়গাটি ভূমি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তারা পুরো এলাকাটি বালি দিয়ে ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রির উপযোগী করে তুলছেন।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-চাঁদপুর ও নোয়াখালী সড়কের সংযোগকারী প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ লাকসাম-মুদাফফরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চাঁদপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামমুখী শত শত যানবাহন চলাচল করে। ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সড়কের দুই পাশে প্রায় ৮০ ফুট জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশে ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে সংযুক্ত একটি পানি নিষ্কাশন জলাধারও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ বালি ভরাটের কারণে ওই জলাধারের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে লাকসাম পৌরসভাসহ পার্শ্ববর্তী লালমাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে কৃষিজমিও।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, খবর পাওয়ার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়। পরে সড়ক বিভাগ লাকসাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন নাহার লাইলী জানান, ঘটনাস্থল থেকে দখলের কাজে আনা বেশ কিছু বাঁশ জব্দ করা হয়েছে এবং নির্মিত বেড়া অপসারণ করা হয়েছে।
কুমিল্লা সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান বলেন, সরকারি জমি দখলের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে লাকসাম থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ভূমিদস্যুদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।