অনলাইন ডেস্ক:
জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচিত কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে ছয়জন নতুন শিক্ষককে পদায়ন ও বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্ত এসেছে কলেজটির সাত শিক্ষককে বদলির আদেশের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এক দিন পর। এতে বদলিকৃত কয়েকজন শিক্ষক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মো. মোস্তফা সারওয়ার খানকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ওএসডি থেকে চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজে কর্মরত ছিলেন। অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ আশিকুর রহমান। তিনি মাউশিতে ওএসডি থেকে কুমিল্লার গৌরীপুর মুন্সী ফজলুর রহমান সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন।
এ ছাড়া নবীনগর সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মতিনকে একই পদে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে। গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন মো. খালেদ ইকবাল জুয়েল। তিনি মাউশিতে ওএসডি থেকে বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন ইসরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি মাউশিতে ওএসডি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে সংযুক্ত ছিলেন। বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. হাবিব উল্লাহকেও একই পদে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদলিকৃত একাধিক শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ না দিয়েই নতুন শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, জলাবদ্ধতার ঘটনায় দায় শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দুঃখজনক।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চিওড়া সরকারি কলেজে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে নবীনগর সরকারি কলেজে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
উল্লেখ্য, জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। পরে ওই ঘটনায় সাত শিক্ষককে বদলির সিদ্ধান্ত হলে গত শনিবার শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তার পরদিনই নতুন ছয় শিক্ষককে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হলো।