নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে গোলজার হোসেন নামের এক মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন কার্যক্রম আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা দাবি করা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে তার জানাজা সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার (৩০ মে) বিকালে স্থানীয় এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এই নজিরবিহীন ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মৃত গোলজার হোসেন উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঈদুল আজহার দিন (২৮ মে) দুপুরে তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে গোলজার হোসেনের জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য তার মরদেহ মশুরাকান্দা ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। ওই সময় উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান মৃতের কাছে তার এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি তোলেন এবং জানাজা ও দাফন কাজে বাধা প্রদান করেন। পাওনা টাকা পরিশোধ করার আগে জানাজা সম্পন্ন করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি জানিয়ে দেন। এরপর মৃতের স্বজনরা সেই পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলে ওই বিএনপি নেতা জানাজা সম্পন্ন করার সুযোগ দেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা আলী আহম্মেদ বলেন, সায়েম প্রধান সে সময় হুমকি দিয়ে বলেন পাওনা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কোনোভাবেই জানাজা ও দাফন করতে দেওয়া হবে না। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলেই দাবিকৃত এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপরই এলাকাবাসী জানাজা শেষে লাশ দাফন করেন।
মৃতের এক স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষ মারা যাওয়ার পর তার পাওনা টাকা নিয়ে এমন অমানবিক আচরণ করা হতে পারে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি। জানাজা আটকে রেখে টাকা আদায় করা চরম অবমাননাকর।
ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান বলেন, গোলজার হোসেনের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক লেনদেন ছিলো এবং তার কাছে তিনি এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। ওই টাকার জন্য বহুবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি তা পাননি।
তিনি আরও বলেন, টাকার জন্য জানাজা আটকিয়েছেন বিষয়টি তেমন নয়, বরং একটা সমাধানের জন্যই ঘটনাটি ঘটেছে। একপর্যায়ে মৃতের পরিবারের সদস্যরা আগামী রবিবার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং বিষয়টির সমাধান হয়েছে।
এই বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, বিষয়টি তাদের কেউ অবগত করেননি। যদি তাদেরকে এই ব্যাপারে জানানো হতো, তাহলে অবশ্যই তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতো।
এ ঘটনায় সনমান্দী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় এখনও তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সামাজিক ও আইনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।