যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের সম্ভাবনার খবরে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কায় মাসিক হিসাবে স্বর্ণের দাম এখনও পতনের দিকেই রয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) নিউইয়র্ক সময় দুপুর ১টা ৪৯ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫৬ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছায়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্বর্ণের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৭৬ ডলারে নেমে গেলেও শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে।
অন্যদিকে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯৩ ডলারে স্থির হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা এবং তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বিলুপ্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ব্লু লাইন ফিউচার্সের প্রধান বাজার কৌশলবিদ ফিলিপ স্ট্রেইবল বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের বাজার। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ নিয়ে আশাবাদ তেলের দাম ও মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মার্কিন ডলার সূচক সপ্তাহজুড়ে নিম্নমুখী ছিল। ফলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। একই সময়ে তেলের দামও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কমার পথে রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, যা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে রাখবে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়ায় এই চাপ আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে আগামী বছর পর্যন্ত ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক, কারণ এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধারণের সুযোগ ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে মাসিক হিসাবে স্পট গোল্ডের দাম এক শতাংশের বেশি কমেছে।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ ভোক্তা দেশ ভারতে উচ্চ মূল্য ও আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের চাহিদা দুর্বল রয়েছে। অন্যদিকে চীনে সতর্ক ক্রয় প্রবণতার কারণে স্বর্ণের প্রিমিয়াম কিছুটা কমেছে।
মূল্যবান অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৭৫ দশমিক ৬২ ডলারে অবস্থান করছে এবং মাসিক হিসাবে লাভের পথে রয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯১৭ দশমিক ৬৫ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৫২ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা মাসজুড়ে ১১ শতাংশের বেশি পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায়।
- সূত্র: রয়টার্স