ঢাকা ২৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
মুরাদনগরে ব্যক্তিগত মাদ্রাসাকে ‘এতিমখানা’ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড দিবো: নারীকে কু’প্র’স্তা’ব বিএনপি নেতার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা ইউপি সদস্যের নারায়ণগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মুরাদনগর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সৈয়দ শরীফ আহমেদকে দেখতে চান এলাকাবাসী বিতর্ক না মিটতেই কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে ৬ শিক্ষকের নতুন পদায়ন কুমিল্লায় ‘টেটাযুদ্ধে’ নারী নিহত, আহত ৪০ সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম মিয়ার খাদ্যনালীতে অস্ত্রোপচার হিপ প্রতিস্থাপনের পর দ্রুত সেরে উঠছেন ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ, বুধবার মিলতে পারে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র বাঙ্গরায় জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা ও ধর্মমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় বিশেষ প্রার্থনা বাংগরা উপজেলা বেসরকারি এতিমখানা কল্যাণ পরিষদের দোয়া ও আহ্বায়ক কমিটি গঠন

প্রেমিকদের পরিকল্পনায় প্রাণ গেল স্বামীর

অনলাইন সংস্করণ
২২ ডিসেম্বর ২০২২, ৪:১১ অপরাহ্ণ ৫১ বার পঠিত
প্রেমিকদের পরিকল্পনায় প্রাণ গেল স্বামীর
  • নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় স্ত্রীর দুই প্রেমিকের পরিকল্পনায় ব্যবসায়ী স্বামী মনসুর রহমানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর দুই প্রেমিকের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। তাঁর নাম জাহাঙ্গীর আলম (২৯)। তিনি এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। গতকাল বুধবার রাতে সাভার থানার হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব বলছে, নিহত মনসুর রহমানের প্রথম স্ত্রী হাসিনা একাধিক পরকীয়ার সঙ্গে জড়িত। জাহাঙ্গীর নামের স্থানীয় দুই যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ায় সে। তাঁর এই পরকীয়ায় বাধা দিলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দুই জাহাঙ্গীর মিলে মনসুরকে হত্যা করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ। লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, নওগাঁর মান্দা এলাকার বাসিন্দা নিহত মনসুর ও গ্রেপ্তার আসামি জাহাঙ্গীর পাশের গ্রামের বাসিন্দা। নিহত মনসুর বিভিন্ন দোকানে চানাচুর বিক্রি করত। সে দুটি বিয়ে করে স্ত্রীদের নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করত। প্রথম স্ত্রী হাসিনা ও দ্বিতীয় স্ত্রী মেঘনা। হাসিনা বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত। প্রথমে হাসিনা সাহেব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়ায়। এরপর মোজাহারের ছেলে জাহাঙ্গীরের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় মনসুরের নিজ বাড়িতে সাহেব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীরসহ তাঁর আরও কয়েকজন বন্ধু হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে আসে। বন্ধুদের পাশের ঘরে বসিয়ে হাসিনা ও জাহাঙ্গীর মনসুরের রুমে অবস্থান করে। এ সময় আপত্তিকর অবস্থায় মনসুর তাঁর স্ত্রীকে দেখতে পায়। এই ঘটনায় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কাটাকাটি শুরু হয় মনসুরের। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় জাহাঙ্গীরের বন্ধুরা মনসুর ও জাহাঙ্গীরের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার কথা বলে মনসুরকে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায়। এই ঘটনার সময় মনসুরের দ্বিতীয় স্ত্রী মেঘনা জাহাঙ্গীর এবং মনসুরকে বাড়ি থেকে বাগানের দিকে চলে যেতে দেখে। র‍্যাব-৩ অধিনায়ক আরও বলেন, ‘হাসিনা ও জাহাঙ্গীরের আপত্তিকর অবস্থাটি দেখে ফেলার ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনার পেছনের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিল নিহতের স্ত্রীর প্রেমিক ও একই এলাকার মোজাহারের ছেলে জাহাঙ্গীর। এক জাহাঙ্গীরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন সাহেব আলীর ছেলে ও হাসিনার আরেক প্রেমিক জাহাঙ্গীর। হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা দুই-তিন দিন আগে থেকে মনসুরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে।’ মনসুরকে হত্যার মাস্টারমাইন্ড ও মূল পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আগে থেকেই বাগানে অপেক্ষায় ছিল উল্লেখ করে আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী মনসুরকে বাগানে নিয়ে যাওয়ার পর মোজাহারের ছেলে জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে সবাই মিলে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত মনসুরের হত্যা নিশ্চিত করতে গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর তাঁর মাফলার দিয়ে মনসুরের গলায় পেঁচিয়ে গাছের ডালের সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়।’ ঘটনার পরদিন সকালে মৃত মনসুরের দ্বিতীয় স্ত্রী মেঘনা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাগানে ঝুলন্ত স্বামীর মরদেহ দেখতে পায়। স্বামীকে সাহেব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বের হতে দেখেছিল মেঘনা। তাই এই জাহাঙ্গীরকে হত্যাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৭ নভেম্বর নিহতের বাবা বদের আলী ওরফে বুদু কবিরাজ বাদী হয়ে সাহেব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও মোজাহারের ছেলে জাহাঙ্গীর আড়ালে থেকে যায়। গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় এসে আত্মগোপন করে। এখানে একটি গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করে। তবে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গভীর তদন্তে সামনে আসে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান র‍্যাবের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন