
“স্ক্যাবিস” বা “খোসপাঁচড়া” অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ, যা খুবই কষ্টদায়ক। এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে কুমিল্লার গ্রাম থেকে শহর সবখানে। আক্রান্ত ব্যক্তি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে শরীরের কিডনি পর্যন্ত নষ্ট করে দিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা শিশু তাওহিদ। হাত-পা ছেয়ে গেছে ছোট লাল র্যাশে। চিকিৎসা নিতে বাবার সঙ্গে এসেছে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে।
তাওহিদের বাবা জামাল হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “তিন ছেলে ও স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই এই রোগে আক্রান্ত। প্রথমে ছেলে তাওহিদ আক্রান্ত হয়। এরপর তার শরীর ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকে ছেলে জোনায়েদ, তানজিদ ও স্ত্রী আসমা আক্তারের শরীরে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। হাত-পায়ে শুরুতে ছোট ছোট ঘামাচির মত দেখা দেয়। তীব্র চুলকানি দেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গেলে চিকিৎসক এটিকে ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যবিসের কথা বলেন। তবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। পরিবারের সবাই খুব কষ্ট পাচ্ছে।”
চিকিৎসকরা জানান, কুমিল্লা জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চর্মরোগের চিকিৎসা নিতে যাওয়া ৭০% রোগী স্ক্যাবিসে আক্রান্ত। শুরুতে শিশুদের মধ্যে থাকলেও এখন সব বয়সীরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীর সংস্পর্শে যাওয়ার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকেও ছড়াতে পারে ভয়াবহ এই চর্মরোগ।
চিকিৎসকরা জানান, “স্ক্যাবিস” শুরুতে ঘামাচির দানা থেকে তীব্র চুলকানি দেখা দেয়। শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে ভাঁজে যেমন দুই আঙুলের ফাঁক, কোমর, ঘাড়, নিতম্বে, যৌনাঙ্গে, হাতের তালুতে, কবজিতে, বগলের নিচে, নাভি ও কনুইয়ে এ রোগের সংক্রমণ বেশি হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত চিকিৎসা না নিলে নানা জটিল রোগসহ কিডনির ক্ষতি করে দিতে পারে।
আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যাওয়ার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত যেকোনো কিছু থেকে সংক্রমিত হতে পারে অন্যরা। এ ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি জেলার মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলায়।
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের চিকিৎসক ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ছোঁয়াচে এই চর্মরোগের সংক্রমণ বাড়ছে। প্রতিদিন যে দুই শতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের শতকরা ৭০% রোগী স্ক্যাবিসে আক্রান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “এই রোগ খুবই ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে বা তার ব্যবহৃত পোশাক, বিছানার চাদর ও তোয়ালে থেকেও পরিবারের অন্যদের মধ্যে ছড়ায়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। চিকিৎসা না নিলে নানা জটিল রোগসহ কিডনি পর্যন্ত ড্যামেজ করে দিতে পারে এই সংক্রামক ব্যাধি।”
তবে স্ক্যাবিস চিকিৎসা নিরাময়যোগ্য। সংক্রমণ ঠেকাতে এক ঘরে অবস্থানকারী সব সদস্যদের একসঙ্গে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর বশীর।
তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গরম-শীত, গরমের বৃষ্টি এ রোগের মৌসুম। আবার এটা যৌনবাহিতও। চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য স্ক্যাবিসে সংক্রামিত ব্যক্তি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ না নিলে জীবাণু ছড়িয়ে আক্রান্ত হতে পারেন পুরো পরিবার। স্ক্যাবিস কিডনিকে আক্রান্ত করে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শের সঙ্গে জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে।”