
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন (২৩) ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেলে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, অর্পিতা নওশিন শুরু থেকেই এনাটমি বিষয়ে জটিলতায় পড়েন। প্রথম বর্ষে থাকাকালে বিভাগের তৎকালীন প্রধানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে তিনি ওই বিভাগের কাছে ‘চিহ্নিত’ শিক্ষার্থী হয়ে পড়েন। তিনি পাঁচ থেকে ছয়বার পর্যন্ত এ পরীক্ষায় অংশ নেন। ফলে সহপাঠীরা যখন শেষ বর্ষে, তখনও তাকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস ও প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি তার ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে বলে সহপাঠীরা জানান।
কলেজের একাধিক সহপাঠী জানান, তাকে বিভিন্ন সময় ফেল করানোর ইঙ্গিত দেওয়া হতো। যদিও তার ব্যাচমেটরা নিয়মিতভাবে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে পঞ্চম বর্ষে পড়ছেন, অর্পিতা একাধিকবার পরীক্ষা দিয়েও এনাটমি বিষয়ে পাস করতে পারেননি।
সামিয়া নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, অর্পিতা নওশিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তার জন্য কোনো কার্যকর কাউন্সেলিং বা সহায়তা ব্যবস্থা ছিল না। কিছু শিক্ষকের কঠোর ও একপাক্ষিক আচরণ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. লিটনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।