
সাজ্জাদ হোসেন শিমুল:
“বাবা, বাজারে গেলে আমার জন্য একটা লাল লিপস্টিক এনে দিও…”
ছয় বছরের আদিবা জাহান মিমের মুখে বলা এই সরল কথাটিই আজ এক বুক হাহাকারে প্রতিধ্বনিত হয় তার শোকাহত পরিবারের কানে। বাবা প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন— বাজার থেকে এনেছিলেন সেই লাল লিপস্টিক। কিন্তু আদিবা আর ফেরেনি। এখন সেই লিপস্টিকটি নীরব সাক্ষী হয়ে আছে এক নিষ্ঠুর হত্যার গল্পের।
গত সপ্তাহে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার সিমানারপাড় গ্রামের আদিবা হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের আকুতি, খোঁজাখুঁজি আর কান্নার মধ্যে ছয় দিন পর পাশের বাড়ির অহেদ ভান্ডারীর পুকুরে ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ। যে শিশুটি কিছুদিন আগেও মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে হাসত, সে এখন কেবল একটি স্মৃতি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির সহায়তায় বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর সত্য— আদিবাকে হত্যা করেছে তারই চাচাতো ভাই ইয়াসিন (১৬)। এক মুহূর্তে ভেঙে যায় এক পরিবারের সুখ-শান্তির সমস্ত বন্ধন।
চোখের পানি থামাতে পারছিলেন না আদিবার বাবা। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ওর জন্য লাল লিপস্টিক কিনে আনলাম, কিন্তু ও আর ফেরেনি… এখন সেই লিপস্টিক তাকিয়ে আছে, কিন্তু ও নেই।
পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রতিবেশীরা বলছেন, আদিবা ছিল হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এক শিশু। তার হাসিতে মুখর থাকত বাড়ি, উঠোন, চারপাশ। আজ সেই হাসি চিরতরে নিভে গেছে।
আদিবার মা কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে লালসার শিকার করে হত্যা করেছে ইয়াসিন। এক মাস আগে সে আমাকেও চেতনা নাশক খাবার খাইয়েছিল। তখন বুঝিনি, এখন সব পরিষ্কার – আমার ওপর প্রতিশোধ নিতে না পেরে সে আমার অবুঝ মেয়েটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তিনি শিশুহত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
একটি লাল লিপস্টিক— এখন যেন এক পরিবারের না বলা কান্নার প্রতীক। আদিবার অপূর্ণ ইচ্ছে হয়ে রয়ে গেছে সেই লাল রঙে, যা আর কোনোদিন ঠোঁটে লাগবে না, শুধু স্মৃতির পাতায় রক্তের মতো ঝরবে।