
সাজ্জাদ হোসেন শিমুল:
আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি
পেয়ে সাধারণ মানুষকে চাপে ফেলে, সেখানে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন কুমিল্লার মুরাদনগরের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় দধি ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া রমজান উপলক্ষে নিজ উদ্যোগে দইয়ের দাম কমিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দোকানের সামনে ব্যানার টানিয়ে মূল্যহ্রাসের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান- রমজান জুড়ে কম দামেই বিক্রি করবেন তার উৎপাদিত দই।
রামচন্দ্রপুরে অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজের সামনে অবস্থিত ‘আল-মামুন দধি দোকান’ এর মালিক ইউসুফ মিয়া সোনাকান্দা গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। প্রায় ২৬ বছর ধরে খাঁটি দুধ থেকে তৈরি সুস্বাদু দই বিক্রি করে এলাকায় সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।
রোজার আগে প্রতি কেজি দইয়ের দাম ছিল ২০০ টাকা। রমজান উপলক্ষে তিনি তা ৩০ টাকা কমিয়ে ১৭০ টাকায় বিক্রি করছেন। ২ কেজি দই ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৩৫০ টাকায় এবং প্রতি কাপ দধি ৪০ টাকার বদলে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন।
দই কিনতে এসে মেহেদি নামে এর ক্রেতা বলেন, “আমি নিয়মিত এই দোকান থেকেই দই কিনি। এখানকার দইয়ের স্বাদ ও মান অন্যদের চেয়ে ভালো। রমজানে দাম কমানোয় আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা উপকৃত হচ্ছি।”
ঝঙঞ ০১ – মেহেদি হাসান, ক্রেতা
স্থানীয় মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, “রমজান মাসে সাধারণত পণ্যের দাম বাড়ে। দুধের দাম বৃদ্ধির পরও ইউসুফ ভাই পুরো রমজান জুড়ে দইয়ের দাম কমিয়ে বিক্রি করছেন – এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আল্লাহ তার ব্যবসায় বরকত দিন।”
ঝঙঞ ০২ – মাওলানা খলিলুর রহমান, ক্রেতা
ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া জানান, “আমি প্রতিবছর রমজানে স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে কম দামে দই বিক্রি করি। আমার চেষ্টা থাকে, যেন এলাকার সব শ্রেণির মানুষ আমার দোকানের দই কিনে খেতে পারেন।” তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
ঝঙঞ ০৩ – ইউসুফ মিয়া, দোকানদার
রমজানে যখন অধিক মুনাফার প্রতিযোগিতায় বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, তখন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।