
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগরে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বিল্লাল হোসেন (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের ভাগলপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিল্লাল হোসেন ধামঘর ইউনিয়নের রায়তলা গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। তবে তার পরিবার এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ভাগলপুর গ্রামের একটি ইটভাটার পাশের পুকুরপাড়ে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বিল্লাল হোসেনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “রাতে আমার স্বামী বাড়ি থেকে বের হয়। সারারাত বাড়ি না ফেরায় ভোরে ভাসুরকে নিয়ে খোঁজে বের হই। কোথাও না পেয়ে বাড়ি ফিরি। কিছুক্ষণ পর জানতে পারি আমার স্বামী মারা গেছে।” সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি, আর আমার স্বামী গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাত। এখন আমি আমার সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব?”
তিনি দাবি করেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে সে নিজে জীবন শেষ করবে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এখানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নিহতের ১০ বছর বয়সী বড় ছেলে বলেন, “আমরা তিন ভাইবোন। আমাদের এতিম করা হয়েছে। যারা আমার বাবাকে মেরেছে, আমি তাদের কঠিন বিচার চাই।”
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জামিল খান বলেন, “খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”